স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শরীর ভালো না থাকলে আমরা মনের দিক থেকেও অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে আমাদের আচরণের মাধ্যমে।

শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য

আমাদের অনেকেরই আমাদের জীবনের কোনো না কোনো সময় একটি গুরুতর বা জীবন পরিবর্তনকারী শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিবে। এই অসুস্থতা এবং এর চিকিৎসা উভয়ই আমাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই তথ্যটি এমন যেকোন ব্যক্তির জন্য যার শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে যা তাদের নিজের এবং যারা তাদের যত্ন নেয় তাদেরও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে।

শারীরিক অসুস্থতার প্রভাব কী?

একটা শারীরিক অসুস্থতা থাকা বা বিকাশ করা আপনার জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। এটা আপনার বাস্তব জীবনের অংশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন:

  • কাজ – আপনি হয়তো দেখতে পাবেন যে আপনাকে কাজ বন্ধ করতে হবে, কম কাজ করতে হবে বা চাকরি পরিবর্তন করতে হবে।
  • দৈনন্দিন কাজ – আপনি যে কাজগুলো উপভোগ করেন সেগুলোতে অংশ নেওয়া বা আপনার পছন্দ মতো বন্ধু এবং পরিবারের সাথে দেখা করা আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে। আপনি নিজে যে কাজগুলো করতেন তা করার জন্য আপনার বন্ধু, পরিবার বা বিশেষজ্ঞ পরিষেবার সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
  • আর্থিক – শারীরিক অসুস্থতা বিভিন্ন কারণে আপনার অর্থের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যাতায়াতের খরচ অথবা আপনার নিজের জন্য নিজেকে বা যারা আপনাকে সহায়তা করে তাদের কাজ কর্ম কম করতে হয়।
  • হাসপাতালে সময় কাটানো – আপনাকে হাসপাতালে কিছু চিকিৎসা নিতে হয় বা অপারেশন করাতে হতে পারে। এর অর্থ হবে বাড়ি এবং আপনার স্বাভাবিক সহায়তার নেটওয়ার্ক থেকে দূরে সময় কাটানো।

শারীরিক অসুস্থতা আপনার চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে:

  • মানসিক চাপ – বোধগম্যভাবে, শারীরিক অসুস্থতা আপনাকে ভবিষ্যত সম্পর্কে উদ্বিগ্ন করতে পারে, এবং বর্তমান সম্পর্কে মানসিক চাপ অনুভব করাতে পারে। আপনি কিছু জিনিস সম্পর্কে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন বোধ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফল, বা যদি আপনাকে হাসপাতালে যেতে হয় তবে শিশু যত্নের ব্যবস্থা করা।
  • নিজের সম্পর্কে অনুভূতি – শারীরিক অসুস্থতা আপনাকে আপনার শরীর এবং আপনার জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি দিতে পারে। শারীরিক অসুস্থতা সাধারণত এমন কিছু নয় যা আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। এটি বিরক্তিকর এবং হতাশাজনক হতে পারে।
  • সম্পর্ক – শারীরিক অসুস্থতা আপনাকে একাকী এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করাতে পারে। তাদের উদ্বিগ্ন বা বিরক্ত না করার জন্য আপনি তাদের সাথে কেমন অনুভব করছেন তা শেয়ার করতে চান না। অথবা আপনি যা করছেন তা শেয়ার করে নিতে চাইলেও কিন্তু আপনার মনে হয় যেন তারা বুঝতে পারে না।
  • পৃথিবীটাকে বোঝা – অসুস্থ হয়ে পড়া আপনাকে আপনার চারপাশের পৃথিবীটা নিয়ে এবং ন্যায্য ও সঠিক কী তা আপনার বোঝার বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। কিছু লোক এটা তাদের আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে বলে মনে করে।

যদি শারীরিক অসুস্থতা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে সহায়তা উপলব্ধ আছে। শারীরিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী লোকেরা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়তার প্রয়োজন কিনা তা জানতে চাইবেন। তারা আপনাকে সহায়তা করতে পারে এমন অন্যান্য বিশেষজ্ঞ বা সংস্থার কাছে রেফার করতে সক্ষম হবে।

আমার শারীরিক অসুস্থতা আমার মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে কিনা তা আমি কীভাবে বলতে পারি?

আপনি কে এবং আপনার জীবনে কী ঘটছে তার উপর নির্ভর করে, শারীরিক অসুস্থতা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে। আমরা এখানে প্রতিটা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কভার করার চেষ্টা করব না, তবে নিচে কিছু লক্ষণ আছে যা আপনি দেখতে চাইতে পারেন।

উদ্বেগ

আপনি যদি উদ্বেগের সম্মুখীন হন তবে আপনি দেখবেন:

  • আপনি সব সময় উদ্বিগ্ন বোধ করেন, একটা বিষয়ে বা অনেকগুলো বিভিন্ন বিষয়ে
  • আপনি স্বস্তি বোধ করতে পারবেন না
  • আপনার হৃৎপিণ্ড কত দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছে, আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস বা হজমের পরিবর্তন আপনি লক্ষ্য করবেন।

মানসিক অবসাদ

আপনি যদি মানসিক অবসাদে ভোগেন, তবে আপনি দেখবেন:

  • আপনি বেশিরভাগ বা সব সময় খুব অসুখী বোধ করেন
  • আপনি ক্লান্ত, অস্থির বোধ করেন এবং আপনার ঘুম, খাদ্য বা যৌনতার আগ্রহের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন
  • আপনি অন্য লোকজনের সাথে যোগাযোগ করতে চান না।

অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার

শারীরিক অসুস্থতা বা আঘাতের সম্মুখীন হলে আপনার চিন্তিত, মানসিক যন্ত্রণাগ্রস্ত বা বিচলিত বোধ করা সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য। কঠিন পরিস্থিতি বা অনিশ্চয়তায় প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনো ‘স্বাভাবিক’ উপায় নেই।

যাইহোক, যদি আপনি একটি চাপপূর্ণ ঘটনা বা ঘটনাক্রমের সাথে ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে সংগ্রাম করেন তবে আপনার ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার’ বলে কিছু থাকতে পারে।

আপনার যদি অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার থাকে তবে হতে পারে আপনি:

  • আপনার শারীরিক অসুস্থতা বা এটা আপনার জন্য কী সে সম্পর্কে চিন্তা করা বন্ধ করতে অসমর্থ
  • আপনার শারীরিক অসুস্থতা সম্পর্কে চিন্তা করার সময় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বা মানসিক যন্ত্রণাগ্রস্ত বোধ করেন
  • এমনভাবে মানিয়ে নেওয়া বা কাজ করতে কষ্ট বোধ করেন যা আপনার জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আপনার যদি অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার থাকে, তবে আপনার অসুস্থতা ধরা পড়ার বা আঘাত পাওয়ার এক মাসের মধ্যে এটা সাধারণত স্পষ্ট হয়ে যাবে।

পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (PTSD/পিটিএসডি / কোনও দুর্ঘটনার পর প্রচণ্ড মানসিক আঘাত)

কিছু লোক যারা শারীরিক অসুস্থতা বা আঘাত অনুভব করে তাদের পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (PTSD) হয়। পিটিএসডি / পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার ঘটে যখন কারো মধ্যে একটি ইভেন্ট বা ঘটনার ধারাবাহিকতায় মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া ঘটে।

পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার হতে পারে এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে আছে:

  • একটা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ধরা পড়া
  • নিবিড় পরিচর্যায় থাকা
  • একটা জটিল প্রসবের অভিজ্ঞতা আছে
  • একটা গুরুতর দুর্ঘটনায় পড়া

আপনার যদি পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার থাকে তবে আপনি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর মধ্যে কিছু অনুভব করতে পারেন:

  • ঐ ঘটনা সম্পর্কে অবাঞ্ছিত এবং কষ্টদায়ক স্মৃতি বা স্বপ্ন
  • মনে হচ্ছে যেন সেই ঘটনা আবার ঘটছে
  • ঘটনাটা মনে রাখার জন্য সংগ্রাম করা, বা এটা সম্পর্কে চিন্তা করা এড়ানো
  • বন্ধু এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করা
  • নিজের সম্পর্কে, অন্যদের বা পৃথিবী সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতি
  • আপনি আগের জিনিসগুলো উপভোগ করছেন না এবং সুখী বা সন্তুষ্ট বোধ করার জন সংগ্রাম করছেন
  • অস্থির অনুভব করা এবং মনোনিবেশ বা ঘুমানোর জন্য সংগ্রাম করা
  • অন্য লোকজনের প্রতি আক্রমনাত্মক আচরণ
  • বিপজ্জনক বা বেপরোয়া জিনিস করা।

আপনি পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার সম্পর্কেএখানে আরও জানতে পারেন।

বুঝতে পারেন যে আপনি অসুস্থ

আপনি যদি কোনো ধরনের মানসিক অসুস্থতার সম্মুখীন হন, তাহলে আপনার আশেপাশের লোকেরা লক্ষ্য করতে পারে:

  • আপনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছেন না
  • আপনি আপনার শারীরিক অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা গ্রহণ বা ওষুধ খেতে চান না
  • আপনি মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেন।

উপরোক্ত উপসর্গের পাশাপাশি, আপনি লক্ষ্য করতে পারেন যে আপনি:

  • ক্লান্ত বোধ করেন
  • ঘুমের সমস্যা হয়
  • ক্ষুধা লাগে না।

এর মধ্যে কিছু কিছু শারীরিক অসুস্থতা বা চিকিৎসার কারণেও হতে পারে। আপনি যা অনুভব করছেন তা ‘স্বাভাবিক’ কি না তা বলা আপনার জন্য বা আপনার পরিচর্যাকারী ব্যক্তিদের পক্ষে কঠিন হয়।

আপনি কেমন অনুভব করছেন সেই সম্পর্কে আপনার ডাক্তার বা আপনার বিশ্বস্ত কারো সাথে কথা বলুন। আপনি যে পরিবর্তনগুলো অনুভব করছেন তা আপনার শারীরিক অসুস্থতার সাথে বা মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত কিনা তা নির্ধারণ করতে তারা আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

আপনি এখানে অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে আরও পড়তে পারেন।

আমার শারীরিক অসুস্থতা থাকলে কি আমার মানসিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?

যাদের শারীরিক অসুস্থতা আছে তাদের মধ্যে সবাই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা অনুভব করবে না। যাইহোক, দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতাযুক্ত ব্যক্তিদের মানসিক সুস্থতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গবেষণায় মানসিক অসুস্থতা এবং নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে একটি যোগসূত্র দেখানো হয়েছে যেমন:

  • ক্যান্সার
  • ডায়াবেটিস
  • হাঁপানি
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • মৃগীরোগ।

যাইহোক, শুধুমাত্র এই শারীরিক অসুস্থতাগুলোই যে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে তা কিন্তু নয়।

যাদের শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকা লোকজনের তুলনায় ২ থেকে ৩ গুণ বেশি মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য কীভাবে সংযুক্ত?

শারীরিক এবং মানসিক রোগগুলো কীভাবে সম্পর্কিত তা সবসময় পরিষ্কার নয়।

আপনি কে এবং আপনার কি ধরনের শারীরিক বা মানসিক রোগ আছে তার উপর নির্ভর করে:

  • আপনার শারীরিক অসুস্থতা মানসিক অসুস্থতা তৈরি করতে পারে
  • আপনার শারীরিক অসুস্থতা আপনার মানসিক অসুস্থতার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে
  • আপনার শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক অসুস্থতা পরস্পর সম্পর্কিত না হয়েও একই সময়ে হতে পারে।

কিছু জিনিস সরাসরি কারো মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটানোয় অবদান রাখতে পারে, যার মধ্যে আছে:

  • মানসিক চাপ – একটা শারীরিক অসুস্থতা খুব চাপের হতে পারে, এবং চাপ আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
  • ওষুধের চিকিৎসা – কিছু ওষুধের চিকিৎসা আপনার মস্তিষ্কের কাজ করার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্টেরয়েডকে মেজাজ পরিবর্তন এবং মনস্তাত্ত্বিক লক্ষণগুলোর কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে:
    • সত্য নয় এমন জিনিস বিশ্বাস করা
    • স্পষ্টভাবে চিন্তা করায় অসুবিধা হওয়া
    • বাস্তবে নেই এমন কিছু অনুভব করা।
  • শারীরিক অসুস্থতা – কিছু শারীরিক অসুস্থতা মস্তিষ্কের কাজ করার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যাদের থাইরয়েড (হাইপোথাইরয়েডিজম) আছে তাদের মানসিক অবসাদ এবং উদ্বেগে ভোগার সম্ভাবনা বেশি।

কখন আমার মানসিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?

শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি যদি:

  • আপনি আগে মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সংগ্রাম করেছেন, বা আগেও আপনার একটা মানসিক অসুস্থতা ধরা পড়েছে
  • আপনার কোন পরিবার বা বন্ধু নেই যাদের সাথে আপনি আপনার অসুস্থতা সম্পর্কে কথা বলতে পারেন
  • আপনার জীবনে একই সময়ে অন্যান্য সমস্যা বা চাপ আছে। উদাহরণস্বরূপ চাকরি হারানো, বিবাহবিচ্ছেদ, বা প্রিয়জনের মৃত্যু। কখনও কখনও ইতিবাচক জীবন পরিবর্তনও আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে যদি সেগুলো অপ্রত্যাশিত বা মানসিক চাপযুক্ত হয়।
  • আপনার শারীরিক অসুস্থতা আপনাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে
  • আপনার একটা টার্মিনাল বা প্রাণঘাতী রোগ আছে
  • আপনার অসুস্থতা আপনাকে নিজের যত্ন নেওয়া থেকে বিরত রাখে।

যে সময়ে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তা হলো:

  • যখন আপনাকে প্রথম আপনার অসুস্থতার কথা জানানো হয়
  • বড় অস্ত্রোপচারের পরে বা আপনার চিকিৎসার পর অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে
  • যদি আপনি ভালো বোধ করার পরে আবার অসুস্থতা ফিরে আসে। যেমন ক্যান্সার ফিরে আসা বা দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক হওয়া
  • যদি আপনার অসুস্থতা চিকিৎসায় ভালো না হয়।

আমার কখন সহায়তা চাইতে হবে?

আপনার শারীরিক অসুস্থতা থাকলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ উদ্বেগ এবং খারাপ মেজাজের ব্যাপারটা বোঝা যায়। তবে আপনার সহায়তা চাওয়া উচিত যখন আপনি:

  • আপনি আগে মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সংগ্রাম করেছেন, বা আগেও আপনার একটা মানসিক অসুস্থতা ধরা পড়েছে, এবং মনে করেন যে আপনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন
  • আপনি আগের চেয়ে বেশি খারাপ বোধ করছেন
  • এই সমস্যা সময়ের সাথে ভালো হচ্ছে বলে মনে হয় না
  • আপনার সম্পর্ক, কাজ, আগ্রহ বা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে এমন অনুভূতিগুলোকে লক্ষ্য করেন
  • আপনি অনুভব করেন যে জীবন বেঁচে থাকার যোগ্য নয়, বা আপনাকে ছাড়া অন্যরা ভালোই থাকবে।

আমি সহায়তা চাইবো কি না- সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না

শারীরিক অসুস্থতা থাকলে সহায়তা চাওয়া কঠিন হতে পারে। নিচের চিন্তাগুলো থাকা একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, এমনকি যদি সেগুলো সত্য না হলেও:

  • “আমাকে আমার শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমার মানসিক স্বাস্থ্য কম গুরুত্বপূর্ণ।” – আপনার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য পরস্পরের সাথে জড়িত। মানসিকভাবে সুস্থ থাকা আপনার শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
  • “আমার ফোকাস করার মত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন জিনিস আছে।” – আপনার মনে হতে পারে যে আপনার পরিবার, অর্থ, আবাসন বা কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু আপনি যদি নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ফোকাস করার জন্য সময় না দেন, তবে আপনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। যদি তা হয় তবে আপনি এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর কোনোটিই করতে পারবেন না।
  • “অবশ্যই আমি মানসিক অবসাদগ্রস্ত বোধ করি, আমি অসুস্থ। এর জন্য সহায়তা নেওয়ার কোনও মানে নেই।” – এটা সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য যে আপনি আপনার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। যাইহোক, তার মানে এই নয় যে আপনি সহায়তার যোগ্য নন। প্রত্যেকেই খুশি হওয়ার, সহায়তা এবং যত্ন পাওয়ার যোগ্য।
  • “আমি নিজেকে অকৃতজ্ঞ বলে মনে করতে চাই না, আমার স্বাস্থ্যসেবা দল আমাকে সহায়তা করার জন্য অনেক কিছু করছে।”  আপনার ডাক্তার আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আপনার শারীরিক স্বাস্থ্য সম্পর্কেও জানতে চাইবেন। এগুলো আপনাকে সুস্থ করার প্রচেষ্টার অঙ্গ, এবং আপনি সহায়তা চাইলে তারা আপনাকে অকৃতজ্ঞ মনে করবে না।

আমি কীভাবে সহায়তা পেতে পারি?

আপনি কেমন অনুভব করছেন সে সম্পর্কে আপনি বিশ্বস্ত কারো সাথে কথা বলে শুরু করতে পারেন। আপনি কেমন অনুভব করছেন তা প্রায়শই শেয়ার করা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার যদি আরও সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে আপনার জেনারেল প্র্যাকটিশনার/জিপি, অথবা আপনার শারীরিক অসুস্থতার জন্য সহায়তাকারী মেডিকেল টিমের সাথে কথা বলুন। তারা আপনার জন্য কোন ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে তা নিয়ে পরামর্শ দিতে সক্ষম এবং আপনাকে সেটা নিতে সহায়তা করবে।

প্রচুর দাতব্য সংস্থা এবং সংগঠন রয়েছে যারা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করে। আপনি এই সংস্থানের শেষে এগুলো সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন।

আপনি যদি ইতিমধ্যেই একটা মেন্টাল হেলথ টিমের তত্ত্বাবধানে থাকেন, তাহলে আপনার শারীরিক অসুস্থতা থাকলে তাদেরও জানাতে হবে। এটা জানা তাদের জন্য সহায়ক হবে যাতে তারা আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

আমি কী ধরনের চিকিৎসা পাবো?

আপনাকে যে ধরণের চিকিৎসা দেওয়া হবে তা নির্ভর করবে:

  • আপনি যে ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন
  • এগুলো আপনার জীবনের উপর যে প্রভাব ফেলছে
  • আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিগুলো।

আপনি যে সমস্যায় ভুগছেন তার উপর নির্ভর করে, আপনাকে অফার করা হতে পারে:

  • সাইকোথেরাপি (টকিং থেরাপি/কথা বলার মাধ্যমে চিকিৎসা নামেও পরিচিত)
  • ওষুধ, যেমন মানসিক অবসাদের ওষুধ (অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট)

কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপি (সিবিটি) এমন লোকজনদের জন্যও সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে যারা ব্যথা নিয়ে বসবাস করছেন।

এই চিকিৎসাগুলো কীভাবে সহায়তা করবে?

কথা বলার মাধ্যমে চিকিৎসা

আপনি কেমন অনুভব করছেন তা প্রকাশ করা কঠিন হতে পারে, এমনকি ঘনিষ্ঠ পরিবার এবং বন্ধুদের কাছেও। কখনও কখনও আপনি কেমন অনুভব করছেন তা আপনার পরিচিত কারো সাথে শেয়ার করা আরো কঠিন, কারণ আপনি তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলতে চান না।

এই কারণে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলা সহজ হতে পারে। তারা আপনাকে অনুভূতি, চিন্তাভাবনা এবং বাস্তব সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করার উপায় খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।

আপনি দেখবেন যে কেবল আপনার উদ্বেগগুলো সম্পর্কে কথা বলতে সক্ষম হওয়ায় আপনি টকিং থেরাপি শুরু করার পর থেকেই ভালো বোধ করছেন। অথবা আপনাকে ঠিক করার জন্য টকিং থেরাপিতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

ওষুধ

এটা আপনাকে যে ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং আপনি অন্য কি সহায়তা পাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করবে।

সাধারণত, আপনার জীবনে অন্যান্য ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো শুরু করার মত সুস্থ বোধ করতে সাহায্য করার জন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যে কোনো ধরনের ওষুধ সাধারণত কাজ করতে একটু সময় নেয় এবং আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।

ঘুম, বা ক্ষুধার সমস্যা অথবা শারীরিক ব্যথার জন্যেও ওষুধ সহায়তা করতে পারে। কীভাবে ওষুধ আপনাকে সহায়তা করতে পারে সে সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

যদি আমি ইতিমধ্যে শারীরিক অসুস্থতার জন্য ওষুধ সেবন করি তবে আমি কি মানসিক অসুস্থতার জন্য ওষুধ খেতে পারবো?

আপনার যদি শারীরিক অসুস্থতা থাকে, তাহলে আপনি হয়তো ইতিমধ্যেই ওষুধ সেবন করছেন। আপনার ডাক্তার আপনাকে জানাবেন যে কোন ওষুধগুলো একসাথে খাওয়া উচিত নয়। তারা আপনাকে এটাও জানাবে যে কোন ওষুধে কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে যা আপনার খেয়াল রাখা উচিত।

সব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, যদিও এগুলো সাধারণত হালকা হয় এবং আপনি যখন কিছু সময় ধরে ওষুধ সেবন করেন তখন এগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। আপনার যে কোনো শারীরিক বা মানসিক পরিবর্তন আপনার ডাক্তারের সাথে শেয়ার করা উচিত।

আমি কীভাবে নিজেকে সহায়তা করতে পারি?

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি, নিজেকে সহায়তা করার জন্য আপনি কিছু কাজ করতে পারেন:

অন্যদের সাথে কথা বলুন
আপনার ভয় এবং উদ্বেগ আপনার কাছের লোকজনদের সাথে শেয়ার করুন। এমন কারো সাথে কথা বলুন যিনি অতীতে সহায়তা করেছেন এবং একজন ভালো শ্রোতা।

আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন
আপনার অসুস্থতা সম্পর্কে আপনার ডাক্তার বা জিপিকে প্রশ্ন করতে ভয় পাবেন না। যদি অসুস্থতা বা এর চিকিৎসার এমন কোন দিক থাকে যা সম্পর্কে আপনি অনিশ্চিত, তাহলে তারা আপনাকে সেগুলো বুঝতে সহায়তা করতে পারে।

সহায়তা নিন
বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা এবং সংগঠন আপনাকে নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হবে। এমনকি আপনি আপনার মত একই শারীরিক অসুস্থতার সাথে বসবাস করছেন এমন অন্যদের সাথে কথা বলতে সক্ষম হবেন এবং পিয়ার সাপোর্ট পাবেন।

আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করুন
আপনার শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা থাকলে আপনি সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন।

ভালো খান
সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ওজন কমানো বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ হতে পারে। আপনার ইটিং ডিসঅর্ডার (খাওয়ার ব্যাধি) থাকলে সুষম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে আপনার ধারণা আলাদা হবে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন
সম্ভব হলে, নিয়মিত কিছু শারীরিক ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। এটা হাঁটতে যাওয়া বা দশ মিনিট হালকা যোগব্যায়াম করার মতো সহজ কিছু হতে পারে।

ভারসাম্য বজায় রাখুন
পরিশ্রম করা এবং বিশ্রাম নেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

নিজের জন্য ভালো কিছু করুন (স্ব-যত্ন)
দিনের মধ্যে আরামদায়ক, আনন্দদায়ক কিছু কাজ করুন। এটা বন্ধুর সাথে ফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে বাগানে বসে বই পড়া পর্যন্ত যেকোনো কিছু হতে পারে।

অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
খুব বেশি অ্যালকোহল পান না করার চেষ্টা করুন, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন
মাদকদ্রব্য আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এবং আপনি যদি অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করেন তবে এটা আরো বিপজ্জনক হতে পারে। আপনি আমাদের ওয়েবসাইটেবিভিন্ন ওষুধের তথ্য এবং সহায়তা পেতে পারেন।

সেলফ মেডিকেটিং বা নিজেকে ওষুধ দেওয়া
কিছু লোকজন তাদের শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য অ্যালকোহল বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে। একে কখনো কখনো ‘সেলফ মেডিকেটিং বা নিজেকে ওষুধ দেওয়া’ বলা হয়। আপনি স্বল্পমেয়াদে এটা সহায়ক বলে মনে করতে পারেন, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটা আপনাকে আরও খারাপ বোধ করাবে। আপনি যদি জটিল অনুভূতির সাথে মানিয়ে নিতে মাদকদ্রব্য বা অ্যালকোহল ব্যবহার করেন, তবে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

যথেষ্ট ঘুমান
একটা ভালো ঘুমের প্যাটার্ন অনুসরণ করার চেষ্টা করুন। পরামর্শের জন্য আমাদের ভালো ঘুম বিষয়ক তথ্য পড়ুন।

আপনার ওষুধ খান
আপনার ডাক্তারের সাথে আলোচনা না করে আপনার ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না, কতটা বা কখন ওষুধ গ্রহণ করছেন তা বদলাবেন না বা অন্য বিকল্প চিকিৎসা শুরু করবেন না। আপনার ওষুধের অপ্রীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলে ডাক্তারকে বলুন।

আপনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
যদি আপনার কোন শারীরিক বা মানসিক রোগ থাকে, বা কোন ওষুধ সেবন করে থাকেন, তাহলে আপনাকে আপনার জিপি বা বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। এগুলোতে যাওয়া নিশ্চিত করুন, এবং আপনার কোনো নতুন কোনো শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে আপনার জিপি বা বিশেষজ্ঞকে জানান। এটা আপনার যে কোনো সমস্যা খারাপ পর্যায়ে যাওয়ার আগেই সেটা থামাতে চিকিৎসকদের সহায়তা করে।

আমি কীভাবে অন্য কাউকে সহায়তা করতে পারি?

যখন কারো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায় তখন বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারই সবার আগে বুঝতে পারে। আপনি যদি আপনার পরিচিত কারো মধ্যে এটা লক্ষ্য করে থাকেন:

  • তাদের মৃদুভাবে বুঝিয়ে সহায়তা চাইতে উৎসাহিত করুন
  • বোঝান যে সহায়তার মাধ্যমে, তারা ভাল হয়ে উঠতে পারে
  • বোঝান যে সহায়তা চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়।

তাদের আরও সহায়তা করার জন্য আপনি করতে পারেন এমন কিছু কাজ হলো:

  • তাদের সাথে সময় কাটান – মানসিক স্বাস্থ্য দূর্বল এমন একজনের সাথে সময় কাটানো তাদের জন্য উপকারী। তারা কেমন অনুভব করছে সেই সম্পর্কে কথা বলতে এবং তারা সাধারণত যে কাজগুলো করে তার মধ্যে কিছু করার জন্য তাদের মৃদুভাবে বুঝিয়ে বলে উৎসাহিত করুন।
  • তাদের আশ্বস্ত করুন – ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করুন যে সময়ের সাথে সাথে এবং সহায়তার মাধ্যমে তার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে। তাদের পক্ষে সেটা বিশ্বাস করা কঠিন হতে পারে যে এটা হবে।
  • একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারাকে উৎসাহিত করুন – তাদের উপর অত্যধিক চাপ না দিয়ে, তাদের ভালো খেতে, ভালো ঘুমাতে, অতিরিক্ত মদ্যপান এড়াতে এবং তাদের ওষুধ খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করার চেষ্টা করুন। আপনি কোন খাবার রান্না করে বা তাদের সাথে মদ্যপান করা ছাড়া অন্য যেকোনো বিনোদনমূলক কাজ করে তাদের সহায়তা করতে পারেন।
  • ভালো একজন শ্রোতা হন  এটি তাদের জানায় যে আপনি তাদের অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে তাদের যে কোনও উদ্বেগ বা প্রশ্ন সম্পর্কে কথা বলতে তাদের পাশে আছেন।
  • সতর্কতা চিহ্নের দিকে লক্ষ্য রাখুন – এটিকে গুরুত্ব সহকারে নিন এবং তাদের ডাক্তারের সাথে কথা বলতে উৎসাহিত করুন যদি তাদের:
    • অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে
    • আর বাঁচতে না চাওয়ার কথা বলা শুরু করেছে
    • নিজেদের ক্ষতি করছে বা এমনটা করতে পারে বলে ইঙ্গিত করছে।

আমি কারো পরিচর্যাকারী, আমার জন্য কী কী সহায়তা উপলব্ধ আছে?

শারীরিক এবং মানসিকভাবে অসুস্থ এমন ব্যক্তির যত্ন নেওয়া খুব চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এমনকি নিজের যত্ন নেওয়া এবং নিজস্ব স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা ভুলে যাওয়াও সহজ।

আপনি যদি কারো দেখাশোনা করেন, তাহলে আপনার জন্য এবং আপনি যে ব্যক্তির পরিচর্যা করেন তার জন্য কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যায় তা দেখার জন্য আপনি নিজের ক্ষেত্রে পরিচর্যাকারীর মূল্যায়ন করাতে পারেন। এটা একজন পরিচর্যাকারী হিসেবে আপনার ভূমিকাকে আরও সহজ করতে সহায়তা করতে পারে। NHS ওয়েবসাইটে একটি মূল্যায়ন পাওয়ার বিষয়ে আরও জানুন।

আপনি কেয়ারার্স ট্রাস্ট ওয়েবসাইটে পরিচর্যাকারীদের জন্য সাহায্য এবং সমর্থন সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন৷

মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার জন্যআমাদের কাছে একটা সংস্থান আছে যেটাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর তথ্য রয়েছে:

  • পরিচর্যাকারী হওয়ার মানে কি
  • রোগী এবং পরিচর্যাকারীদের অধিকার
  • কীভাবে কারো পক্ষসমর্থন করতে হয়
  • নিজের যত্ন নেওয়া
  • পরিচর্যাকারীদের জন্য উপলব্ধ সুবিধা
  • কীভাবে স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পরিচর্যাকারী সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা, পরিচর্যাকারী এবং রোগীদের কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারে।

অজ্ঞাত অসুস্থতা বা ব্যথার সঙ্গে বসবাস করা

কিছু লোকজন রোগ নির্ণয় না করেই অসুস্থতা বা ব্যথা নিয়ে বেঁচে থাকে। এটা ‘চিকিৎসাগতভাবে ব্যাখ্যাতীত উপসর্গ’ নামেও পরিচিত, এবং যখন ডাক্তাররা কারোর উপসর্গের পেছনে কোনো শারীরিক কারণ খুঁজে পান না।

অসুস্থতা বা ব্যথার সাথে জীবনযাপনের স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জগুলির পাশাপাশি, আপনার সমস্যার কারণ কী তা না জানা অন্যান্য অনেক কারণে কঠিন হতে পারে:

  • আপনার সমস্যার কারণ কী তা না জানা ভীতিকর এবং মানসিক চাপের হতে পারে, যাতে আপনার আরো বেশি খারাপ লাগবে।
  • আপনার চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হতে পারে।
  • রোগ নির্ণয় করা হলে আপনি যা অনুভব করছেন তার নাম জানতে এবং অন্যদের কাছে তা ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে। এটি না করলে, কিছু লোকজন অন্যদের কাছে নিজেদেরকে বিশ্বাসযোগ্য বা সঠিক মনে করাতে পারে না।
  • আপনি হয়তো এমন চিকিৎসা করিয়েছেন যাতে কাজ হয়নি। এটা বিরক্তিকর হতে পারে, বা অন্যান্য শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

এসব কিছুই আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত অবস্থায় থাকে।

আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি চিকিৎসাগতভাবে ব্যাখ্যাতীত উপসর্গের সম্মুখীন হন, তাহলেও সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে :

More Reading

Post navigation

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *